১৭ মে, ২০২৬
জুলফিয়ার ক্যালকুলেটর — অনুসন্ধানীর ক্ষুদে যন্ত্রবিদ
১৯৭৮ সালে দৈনিক বার্তায় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে — অনুসন্ধানীর ক্ষুদে সদস্য জুলফিয়া জারিন, পিএন গার্লস স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী, যে কীভাবে বিনে পয়সায় একটি ক্যালকুলেটর মেশিন তৈরি করেছিল।
“ও দের আবিষ্কারে শুধু আমাদের বাংলাদেশ কেন, সমগ্র পৃথিবীর মানুষ অবাক হয়ে যাবে।”
দৈনিক বার্তার ১ অক্টোবর ১৯৭৮ সংখ্যায় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে এভাবেই শুরু হয়েছিল অনুসন্ধানীর এক ক্ষুদে সদস্যের গল্প। জুলফিয়া জারিন — মাত্র আট কি নয় বছর বয়সী একটি মেয়ে, পিএন গার্লস স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী, একটি ক্যালকুলেটর মেশিন তৈরি করেছিল — বিনে পয়সায়।
“তোমরা কি ক্যালকুলেটর মেশিন দেখেছ? সেই যে বড় বড় অফিস আদালতে থাকে?” — প্রতিবেদকের প্রশ্ন। সেই মেশিনে যত বড় খুশি যোগ, বিয়োগ, গুণ, ভাগ করা যায়। প্রতিবেদক ভাবছিলেন, তোমাদের সকলের কাছে যদি একটি করে ক্যালকুলেটর মেশিন থাকত খুব মজা হতো — যোগে ভুল করে কান-মলা খেতে হতো না।
জুলফিয়া তার ক্যালকুলেটর যন্ত্রটি তৈরি করেছিল কাঠ, কাগজ এবং সহজলভ্য উপকরণ দিয়ে — একটি পয়সাও খরচ না করে। পত্রিকার ভাষায়, এটি অবাক ব্যাপার।
এই গল্পটি কেবল একটি ছোট মেয়ের আবিষ্কারের গল্প নয় — এটি অনুসন্ধানীর সেই দর্শনের প্রতিফলন: প্রত্যেক শিশুর মধ্যেই একজন ক্ষুদে বিজ্ঞানী লুকিয়ে আছে, প্রয়োজন কেবল তাকে সুযোগ দেওয়া। ১৯৭৭ সালে রাজশাহীতে যাত্রা শুরু করার পর প্রথম দশকেই সংগঠনটি দেখিয়ে দিয়েছিল — সম্পদ নয়, কৌতূহলই বিজ্ঞান চর্চার মূল চাবিকাঠি।
৪৯ বছর পরও জুলফিয়া জারিনদের সেই উৎসাহ আমাদের চালিকাশক্তি।