১৭ মে, ২০২৬
রাজশাহী থেকে সিলিকন ভ্যালি — ২০০৪ সালে অনুসন্ধানীর সদস্যদের গল্প
২০০৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালির একটি মেডিকেল ইকুইপমেন্ট কোম্পানির জন্য সফটওয়্যার তৈরি করেছিল একদল রাজশাহীর ছাত্র — তাদের অনেকেই অনুসন্ধানীর সদস্য। একটি পুরোনো সংবাদপত্রের প্রতিবেদন থেকে।
২০০৩ সালের জুন মাসে রাজশাহীর একদল কিশোর-তরুণ একটি অসাধারণ কাজে হাত দেয়। প্রায় ১৮ মাস পরে — নভেম্বর ২০০৪-এ — তারা সম্পন্ন করে: যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালির মেডিকেল ইকুইপমেন্ট প্রস্তুতকারী কোম্পানি Cellstat Inc-এর জন্য একটি Tissue Culture Development Monitoring Software। সম্পূর্ণটাই C/C++ ভাষায় লেখা।
এই দলের নাম রাজশাহী আজও মনে রেখেছে: রাজু, অন্ন, ইসহাক, মেহদী, মাহী, হিমু — কামরাঙ্গা সফটওয়্যার লিমিটেডের একটি প্রকাশিত অভিনন্দন বার্তায় তাদের ছবি ছাপা হয়েছিল।
কিন্তু এই গল্পের সবচেয়ে অবাক করা দিকটা — সংবাদপত্রের নিজের ভাষায়:
“এই সফটওয়্যার দলের বৈশিষ্ট্য এই যে এরা সকলেই ছাত্র এবং কেহই কম্পিউটার সাইন্স এর ছাত্র নহে এবং কেহ মাদ্রাসার ছাত্র।”
কেউই কম্পিউটার বিজ্ঞানের ছাত্র নয়। কয়েকজন মাদ্রাসার ছাত্র। এরা সকলে নিজের উদ্যোগে এবং কামরাঙ্গা সফটওয়্যারের সহযোগিতায় C/C++ প্রোগ্রামিং, কম্পিউটার হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক শিক্ষা করেছিল।
এদের অনেকেই অনুসন্ধানী বিজ্ঞান ক্লাবের সদস্য — দৈনিক বার্তার প্রতিবেদন স্পষ্টভাবে এ কথা উল্লেখ করেছে।
আমরা ১৯৭৭ সালে যাত্রা শুরু করেছিলাম এই বিশ্বাস নিয়ে যে — সম্পদ নয়, কৌতূহলই বিজ্ঞান চর্চার মূল চাবিকাঠি। ২০০৪-এ এই দল প্রমাণ করেছিল সেই বিশ্বাসের ফল কতটা দূর পর্যন্ত যেতে পারে। রাজশাহীর একটি ছোট কম্পিউটার ল্যাব থেকে তৈরি একটি সফটওয়্যার পরের জানুয়ারিতে জাপানে প্রথম ছাড়া হয়, এবং একটি জাপানি কোম্পানির মাধ্যমে ইউরোপ ও এশিয়ার বাজারে যায়।
এদের কথা — ১৯৭৭-এর ক্ষুদে বিজ্ঞানীদের থেকে ২০০৪-এর সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারদের — অনুসন্ধানীর সবচেয়ে গর্বের অধ্যায়। “এরা বাংলার কৃতি সন্তান,” পত্রিকা লিখেছিল। ২০ বছর পরও আমরা একমত।